দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। ফেব্রুয়ারিতে দেয়া পূর্বাভাসে এ ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার। কয়েক মাসের ব্যবধানে পূর্বাভাসে ২০ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। খবর ফরচুন।
সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জন্য স্বাধীনভাবে বাজেট বিশ্লেষণ করে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক মাসিক বাজেট পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যয় ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের কাছাকাছিই রয়েছে। ফলে বাজেট ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ ব্যয় নয়। বরং সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
বিশেষ করে শুল্ক ও কাস্টমস শুল্ক থেকে আয় কমেছে এবার। সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে শুল্ক ও কাস্টমস শুল্ক থেকে রাজস্ব ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের চেয়ে ২৫ হাজার কোটি ডলার কম হতে পারে। এর পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি আদালত রায় দেন, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএর আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ছিল না। ফলে ওই আইনের ভিত্তিতে আরোপ করা শুল্ক নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে শুল্ক থেকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্বও কমে যায়।
তবে অন্য কিছু কর থেকে বেশি আয় হওয়ায় ক্ষতির একটি অংশ সামাল দেয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিবিও। আয়কর ও বেতনভিত্তিক কর থেকে প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বেশি রাজস্ব এসেছে। কিন্তু সরকারের অন্যান্য রাজস্ব খাত থেকে আয় পূর্বাভাসের চেয়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার কম হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজস্বে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস। তার মতে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। শুধু জুলাইয়েই ঋণ নেয়া হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ধার করতে হয়েছে মার্কিন সরকারকে।
ম্যাকগিনিস বলেন, ‘অর্থনীতি মন্দার মধ্যে না থাকা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।’
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুল্ক থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের দুর্বল অবস্থাকে আরো প্রকট করেছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই দেশটির বাজেট ঘাটতি হয়েছে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ ঘাটতি ১৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি জুলাইয়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় এটি ১৪ হাজার কোটি ডলার বেশি। ওই মাসে সরকারের মোট রাজস্বও ৫০০ কোটি ডলার বা ১ শতাংশ কমেছে। যদিও আয়কর ও বেতনভিত্তিক কর থেকে রাজস্ব বেড়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি বা ১১ শতাংশ। শুল্ক ফেরত দেয়ার বড় ধাক্কায় সে বাড়তি রাজস্বও কাজে আসেনি।
ব্যয়ের দিক থেকেও কয়েকটি বড় খাতে চাপ বেড়েছে বলেছে জানায় সিবিও। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থব্যয় বেড়েছে ৭ হাজার কোটি ডলার বা ৫ শতাংশ। মেডিকেয়ারে ব্যয় বেড়েছে ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বা ৮ শতাংশ। মেডিকেইডে ব্যয় বেড়েছে ৪৫ কোটি ডলার বা ৮ শতাংশ। এ তিন খাতে সম্মিলিত ব্যয় বেড়েছে ১৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার বা ৭ শতাংশ।
মার্কিন সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারি ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ১১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বা ১৪ শতাংশ। এর পেছনে রয়েছে সরকারের বাড়তে থাকা ঋণের পরিমাণ ও দীর্ঘমেয়াদি সুদহার বৃদ্ধি।